Home » » সিডিএ মাস্টার প্ল্যান ব্যতীত অপরিকল্পিত ফ্ল্যাইওভার নির্মাণ করে নগরীকে ধ্বংস করে যাচ্ছে -মো. কামাল উদ্দিন

সিডিএ মাস্টার প্ল্যান ব্যতীত অপরিকল্পিত ফ্ল্যাইওভার নির্মাণ করে নগরীকে ধ্বংস করে যাচ্ছে -মো. কামাল উদ্দিন

Written By grameenphoto on Wednesday, 22 October 2014 | 04:44

চট্টগ্রামের  উন্নয়নের দায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে নিয়েছেন। তাঁর জন্য চট্টগ্রামবাসি  প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী  চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য যতটুকু অর্থ বরাদ্ধ প্রয়োজন সেটা দিয়ে আসছেন।  কিন্তু চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে  উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের জনপ্রতিনিধিদের। অভিজ্ঞতার অভাবে চট্টগ্রামকে উন্নয়নের নামে ধ্বংস করে দিচ্ছে। কর্ণফুলী বন্দর সংলগ্ন সেতু নির্মাণের ফলে  কর্ণফুলী নদীর  নাব্যতা হারিয়ে যাচ্ছে চাক্তাই  খাল পর্যন্ত চর জেগেছে। তেমনি অপরিকল্পিতভাবে বহদ্দারহাট ও দেওয়ানহাট ফ্ল্যাইওভার নির্মাণ করে এলাকাসমূহকে যানজট মুক্তের পরিবর্তে যানজটভুক্ত করেছেন। আবারও যদি অপরিকল্পিতভাবে  ফ্ল্যাইওভার নির্মাণ হয় তাহলে চট্টগ্রাম শহর আর শহর থাকবে না। এক সময়ে ধ্বংশ হয়ে যাবে। শহরের সুন্দয্য। তাই চট্টগ্রাম শহরকে উন্নয়ন করতে হলে মাস্টার প্ল্যান অনুপাতে করুন। চট্টগ্রাম শহর বিশ্বে উন্নত পরিবেশ সমৃদ্ধ কয়েকটি শহরের মধ্যে অন্যতম শহর। যে শহরে পাহাড়, নদী, সমুদ্র রয়েছে। যে শহরে একই সাথে পানির জাহাজ ও উড়োজাহাজ চলে।


বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার
সেই শহর কারো ব্যক্তির  বাহাবা পাওয়ার আশায় যদি  উন্নয়নের নামে ধ্বংস করে দেওয়া  হয়, তাহলে ঐ ধ্বংসকারিদেরকে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।আজকে সময় আসছে, চট্টগ্রাম বটতলী রেল স্টেশনকে সরিয়ে ছলিমপুর নিয়ে যাওয়া এবং রেলওয়ে এই জায়গা সমূহকে  সুন্দর শহর গড়ার আওতায় আনা। দু’শত  বছর পূর্বের বৃটিশকর্তৃক নির্মিত পুরাতন রেল স্টেশনটি ভেঙ্গে অহেতুকভাবে নতুন স্টেশন ভবন করার কোনও প্রয়োজন ছিলো না।  তাই বিবেচনা করার দরকার স্টেশন  সরিয়ে নেওয়া যায় কি না। ফ্ল্যাইওভার  নির্মাণ বিষয়ে অভিজ্ঞ নগরবিদদের পরামর্শ নেওয়ার দরকার আছে বলে অনেকে মনে করেন। তবে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন মাস্টার প্ল্যান।চট্টগ্রাম শহরকে যদি পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করতে হলে সিডিএর মাস্টার প্ল্যান  বাস্তবায়ন একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করি চট্টগ্রাম উন্নয়নের দাবীতে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মাধ্যমে ১৯৮৮ সাল হতে চলমান কর্মসূচীর ভিত্তিতে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে বাস্তবে উপলব্ধি করে সিডিএ মাস্টার প্ল্যান ও সিডিএ ঐতিহ্য ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরছি। ১৯৬১ সালে সিডিএ প্রতিষ্ঠিত হবার পর প্রথম গওঘঙচজওঙ অঘউ ঝচঊঘঈঊখণ অঘউ চ.ড. গঈঋঅজখঅঘঊ নামক এক বিট্রিশ কনসালটেন্ট এর ধারণা অনুযায়ী একটি রিজন্যাল প্ল্যান ও একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়। সাবেক পূর্ব পাকিস্তান সরকারের বিডি এন্ড এলজি ডিপার্টমেন্টের ১৩ নভেম্বর ১৯৬১ সালের বিজ্ঞপ্তি নং-৬৫৯-২ এন/৬১ আইটি অনুবলে  সিডিএ মাস্টার প্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন, আশেপাশের এলাকার জন্যে মাস্টার প্ল্যান তৈরি, জমি ব্যবহার এবং ্এ্যাক্ট প্রয়োগ করা  ইত্যাদি সিডিএর দায়িত্ব ও কর্তব্য। কোতোয়ালী, পাহাড়তলী, পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, চান্দগাঁও, বন্দর, কর্ণফুলী, বাকলিয়া, হালিশহর, বায়েজীদ, খুলশী ও পতেঙ্গা থানা সম্পূর্ণভাবে এবং পটিয়া, বোয়ালখালী, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী থানার অংশ বিশেষ অথবা চাটগাঁ শহরের ও তার চতুর্দিকের ২১২ বর্গমাইল এলাকা সিডিএ’র আওতাভুক্ত ছিল। তবে ১৯৬১র মাস্টার প্ল্যানের বিধান সমূহ পরবর্তী বিশ বছরের জন্যে প্রনয়ণ করা হয়েছিল। সময়ের তাগিদে ও প্রয়োজনে ১৯৯৫ সালে টঘঞঞঊউ ঘঅঞওঙঘ উঊঠঊখঙচগঊঘঞ চজঙএজঅগঊ এর টঘচ অর্থাৎ জাতি সংঘ উন্নয়ন কর্মসূচী সহায়তায় ১২৮৮৫০ লক্ষ  টাকার নতুন একটি মহাপরিকল্পনা প্রণীত হয় যা চট্টগ্রামের  বর্তমান উন্নয়ন কর্মকান্ডে অনুসরণ করা হয়। প্রণীত মহাপরিকল্পনাটি সরকার কর্তৃক  অনুমোদনপূর্বক ৩ মার্চ ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। উক্ত মাস্টার প্ল্যান ৪৪৫ বর্গমাইল বা ১১৫৪ কিলোমিটার এলাকার জন্য ১৯৯৫  সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদী একটি স্ট্রাকচার প্ল্যান। ১০০ বর্গমাইল বা ২২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকার জন্য ১৯৯৫ হতে ২০০৫ সাল  পর্যন্ত ১০ বছর মেয়াদী একটি আরবান ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান এবং ট্রান্সপোর্টেশন প্ল্যান ও স্ট্রম ওয়াটার ড্রেইনেজ এন্ড ক্লাড কন্ট্রোল প্ল্যান অন্তর্ভুক্ত।মাস্টার প্ল্যানের পাশাপাশি সিডিএর সংক্ষিপ্ত  ইতিহাস পর্যালোচনা করার দরকার চট্টগ্রাম নগরীর লোকসংখ্যা বৃদ্ধিতে নগরীর সম্প্রসারণ। ব্যবসা বাণিজ্য  বৃদ্ধি এসব নানা কারণে চিটাগাং মিউনিসিপ্যালিটির ্একার পক্ষে নাগরিক সুযোগ সুবিধা পূরণ ও রাস্তাঘাট উন্নয়ন করা সম্ভব নয়। তাই আধুনিক নগরায়নের মহান অভীষ্টে ১৯৫৯ সালের ২৬ জুলাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর জাকির হোসেন এর স্বাক্ষরে এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে চট্টগ্রাম  উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংক্ষেপে চউক’র প্রতিষ্ঠিত হয়। যার ইংরেজি নাম চিটাগাং ডেভেলপমেন্ট অথরিটি সংক্ষেপে সিডিএ। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ টাউন  প্ল্যানিং কনসালটিং ফার্ম কর্তৃক চট্টগ্রাম এর প্রথম রিজন্যাল প্ল্যান এবং মাস্টার প্ল্যান তৈরি  করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন লোকাল গভর্নমেন্ট এবং  চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ লোকাল অথরিটি হিসেকে আইনগত অভিহিত ও পরিগনিত। বর্তমান সিডিএ ভবন সিডিএ প্রতিষ্ঠাকালিন ছিল না। সিডিএর প্রথম  অবস্থায় অফিস স্থাপিত হয় ৮০ নং কায়েদে মিল্লাত রোড বর্তমান শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ রোড। যা আসকার দীগির উত্তর পূর্বকোণে অবস্থিত এ অফিস  ভবনটি। পরে কৃষ্ণ কুমারি স্কুল বর্তমান পরিচয় ‘রীমা কমিউনিটি সেন্টার’ এ ভবন হতেই প্রথম সিডিএর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর একইসাথে কোর্ট রোডে সিডিএর নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ১৯৬৩ সালের মে মাসে শহীদ সাইফুউদ্দিন খালেদ রোডস্থ অস্থায়ী ভবন হতে সিডিএর নিজস্ব ভবনে সিডিএ অফিস স্থানন্তর করা হয়।বর্তমান সিডিএ ভবনটি নক্সা করেছিলেন মিঃ ম্যাকল ও মুকিত আহমেদ। বর্তমান ভবনের স্থানে ভবন নির্মাণ করার পূর্বে একটি পুকুর ছিল। পুকুরের মধ্যে গরু ঘোড়া গোসল করানো হতো।১৯৫৯ সালের ১ অক্টোবর সিডিএ প্রতিষ্ঠা লাভ করার পর ২১২ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে কাজ-কর্ম আরম্ভ করে। বর্তমান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন সাঙ্গু নদী ও পটিয়ার শেষ দক্ষিণাংশ এবং উত্তরে সীতাকুণ্ড থানার বাঁশবাড়িয়া ও হাটহাজারী থানার মির্জাপুর পর্যন্ত ৪৪৫ বর্গমাইল বা ১১৫৪ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত। পুরো চট্টগ্রামটি পর্যটন। এই চট্টগ্রামের সৌন্দর্য্যরে ইতিহাস হাজার বছরের। যে চট্টগ্রামকে প্রাচ্যের রাণী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল।  সত্যি সত্যি চট্টগ্রামকে বর্তমান সরকার তথা সংশ্লিষ্ট অথরিটি যদি উন্নয়ন করতে চায় তাহলে প্রথমে চট্টগ্রাম উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আলোকে চট্টগ্রাম সিটি  কর্পোরেশন, ওয়াসা, বিদ্যুৎ, পর্যটন কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ একত্রিত হয়ে  কাজ করতে হবে বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা। আমরা বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির উদ্যেগে মরহুম এস.এম.জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে  আন্দোলনের মাধ্যমে চট্টগ্রামবাসির জন্য আদায় করতে পেরেছি তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, বাংলাদেশ  টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র, পৃথক চট্টগ্রাম  শিক্ষা বোর্ড, কর্ণফুলী নদীর ২য় ও তৃতীয় সেতুসহ ‘নামে মাত্র’ ঘোষিত  বাণিজ্যিক রাজধানী এবং চট্টগ্রাম শহর তথা  শহরের বাইরে কিছু বিনোদন কন্দ্র ঐসব কিছুই আজ অপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়াতে আমাদের উন্নয়নের পরিপন্থি হয়েছে বলে অনেকে মনে  করে।যেমন চট্টগ্রাম রেলওয়ে ষ্টেশন শতবছর পূর্বে যে স্থানে ছিল সেখানে সংস্কার করে রেখেছে কিন্তু উচিৎ ছিল রেওয়ে ষ্টেশনকে শহরের বাইরে  সরিয়ে  নেয়ার। রেলওয়ে ষ্টেশন চট্টগ্রাম শহর থেকে সরে গেলে পুরো শহরের চেহারা পাল্টে যাবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনালসমূহ একেবারে শহরের বাইরে নিয়ে  যেতে হবে।  কর্ণফুলীর দুই পাড়েই বেড়ী বাঁধের অনুরূপ মহাসড়ক করে শহরের অভ্যন্তরিন যানজট নিরসনসহ চট্টগ্রাম শহরেরর শ্রীবৃদ্ধি করতে হবে।  চট্টগ্রাম একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক নগরী প্রতিটি স্থানের নামকরণের পিছনে ইতিহাস জড়িত। সেই ঐতিহাসিক স্থান সমূহকে ইতিহাসের আওতায়  এনে ইতিহাসের চিহ্ন স্বরূপ কিছু নিদর্শন নির্মাণ করতে হবে। বিমান বন্দর সমূহকে একটি প্রাচীন সাম্পান বন্দরের সামনে জাহাজও পালতোলা  বাণিজ্যিক নৌকা, টাইগারপাস মোড়ে একটি বাঘের নিদর্শন, সিআরবির মোড়ে রেলের ইঞ্জিন বা অন্যকিছু। নিউ মার্কেটের মোড়ে কর্ণফুলীর দৃশ্য, চেরাগী  পাহাড়ের মোড়ে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক নির্মিত ঐতিহাসিক চেরাগকে গ্যাস পদ্ধতির মাধ্যমে জ্বালিয়ে দিতে হবে। জালালাবাদ পাহাড়ে মাষ্টার দা সূর্যসেনের  মূর্তি, চট্টগ্রাম স্বাধীনতা বেতার কেন্দ্রে স্বাধীনতার ঘোষকদের ছবি। চট্টগ্রাম শহর তথা সে সব স্থানে পাকিস্তানী হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে সে  সব স্থানকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণসহ তাদের ছবি লাগাইতে হবে। চট্টগ্রামের প্রাচীন ভবনসমূহসহ বিভিন্ন কবি সাহিত্যিক মনিষীদের স্মৃতি  রক্ষার্থে নিদর্শন রাখতে হবে।চট্টগ্রাম শহরের ভরাটকৃত খালসমূহ পূণখনন করারও অতি প্রয়োজন। বিশেষ করে চট্টগ্রামের পাহাড় সমূহকে পরিবেশ বান্ধব রূপে গড়ে তুলতে হবে। সি বীচ সহ যে এলাকা সমুদ্র ও নদী সংলগ্ন আছে সেসব স্থানকে বিনোদনের জন্য উম্মুক্ত করতে হবে।উন্নয়ন পবিকল্পনার আওতায় হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এনে ‘একটি পৃথক জোন করতে হবে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে আন্তরিকতার সহিত কাজ করতে হবে। অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন করে আমাদের কোন লাভ হবে না। আমার ক্ষুদ্র ধারণার বাইরে আরো অনেক কিছু রয়েছে সেসব কিছু বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার সুপারিশ রইল।
লেখক: সিনিয়র যুগ্ন মহসিচিব বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি

0 comments:

Post a Comment